spot_img
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
Homeঅপরাধ ও অনিয়ম১শ ৬০ কেজি চালের পরিবর্তে মৎস্যজীবিরা পাচ্ছে মাত্র ৬০ কেজি

১শ ৬০ কেজি চালের পরিবর্তে মৎস্যজীবিরা পাচ্ছে মাত্র ৬০ কেজি

জাটকা সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে আট মাসের জন্য জাটকা আহরণ নিষেধাজ্ঞার কারনে সরকারের পক্ষ থেকে মৎস্যজীবিদের প্রনোদনা হিসেবে চাল দেওয়া হয়। ফরিদপুরে মৎসজীবিদের জন্য বরাদ্দকৃত সেই চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি ১শ ৬০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও দেয়া হয়েছে মাত্র ৬০ কেজি করে। তবে মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, কোনো অনিয়ম হয়নি, মৎসজীবির সংখ্যা অনুযায়ী বরাদ্দ কম আসায় এমনটি হয়েছে।

জানা যায়, জাটকা সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে জাটকা আহরণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে আট মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে গত ১লা নভেম্বর থেকে, শেষ হবে ৩০ জুন। ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চার মাসে কার্ডধারী মৎসজীবি পরিবারের জন্য ১শ ৬০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব চাল বিতরণের ব্যাপক অনিয়মের চিত্র। কার্ডধারী সকলের মাঝে ৩০ কেজি থেকে মাত্র ৬০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও বস্তা প্রতি ওজনেও কম দেয়া হয়েছে।

সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে ২শ ৭০, চরমাধবদিয়া ১শ ৩০, ডিক্রিরচরে ১শ ১৩, আলিয়াবাদে ৮৬ জন এবং ফরিদপুর পৌরসভায় ১শ জন কার্ডধারী মৎস্যজীবির নামে বরাদ্দ এসেছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার একজন প্রতিনিধি ও চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে।

সরেজমিনে রোববার (০৮ মার্চ) দুপুরে চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে মৎস্যজীবিদের মধ্যে চাল বিতরণের দৃশ্য দেখা যায়। তবে সেখানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কোনো প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি। এ সময় দেখা যায়, পুরনো কার্ডধারীদের মাঝে ৩০ কেজির দুটি বস্তায় ৬০ কেজি এবং নতুন কার্ডধারীদের এক বস্তা করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। যার মধ্যে বেশিরভাগ চালের বস্তা কাটাছেঁড়া রয়েছে। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ইউপি চেয়ারম্যান তরিঘড়ি করে নতুন কার্ডধারী কয়েকজন মৎস্যজীবিকে দুই বস্তা করে চাল তুলে দেন।

কার্ডধারী একাধিক মৎসজীবির সাথে কথা হলে তারা জানান, তারা নিজেরাও জানেন না কত কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। তারা পাচ্ছেন ৬০ কেজি করে। শুনেছেন ১শ ৬০ কেজি করে দেওয়ার কথা, কিন্তু তা দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ করে বলেন, আমাদের অভিযোগ শোনার কেউ নেই, তাই যা দিচ্ছে তাই নিয়েই বাড়ি যাচ্ছি। আট মাস জাটকা মাছ মারতে পারবো না, আর চাল দেওয়া হচ্ছে চার মাসের। ১শ ৬০ কেজি দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ৬০ কেজিরও কম।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের সুত্রমতে, ফরিদপুর সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১ হাজার ৪শ কার্ডধারী মৎস্যজীবি রয়েছে। এর মধ্যে ৬শ ৫৩ জন মৎস্যজীবির মাঝে চালের বরাদ্দ এসেছে। মোট বরাদ্দকৃত চালের পরিমাণ ১০৪.৪৮ মেট্রিক টন। যার মধ্যে ৬০ কেজি করে বিতরণ করায় ৬৫.৩ মেট্রিক টন চালের হিসাবে গড়মিল পাওয়া গেছে।

চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: তুহিনুর রহমান মন্ডল খোকন জানান, মৎসজীবিদের সংখ্যার চেয়ে চাল বরাদ্দ এসেছে কম, তাই সকলের মাঝে এই চাল ভাগ করে দেওয়ায় ১শ ৬০ কেজির স্থলে ৬০ কেজি করে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার সাথে কথা বলেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে ১শ ৬০ কেজির স্থলে মাত্র ৬০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে এটাকি ঠিক কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সকলের সাথে কথা বলেই দেওয়া হচ্ছে। ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোছা: শিরীন শারমিন খাঁন জানান, ১হাজার ৪শ কার্ডধারী মৎসজীবি রয়েছে। সেখানে ৬শ ৫৩ জনের চালের বরাদ্দ এসেছে। মানবিক কারনে এই চাল সকলের মাঝেই বন্টন করছে চেয়ারম্যানরা। বিতরণের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে কিনা সেটা চেয়ারম্যানরা বলতে পারবেন।

তিনি আরো জানান, আমাদের চাল দেওয়ার বিষয়ে কোনো ক্ষমতা নেই। ডিও লেটার আসে ইউএনও অফিসে সেখান থেকেই নির্দেশনা অনুযায়ী চেয়ারম্যানদের কে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। চাল বরাদ্দের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বলা হয়েছে। আমাদের জানানো হয়েছে যা বরাদ্দ পাওয়া যাবে সেভাবেই বন্টন করতে হবে, খেয়াল রাখতে হবে যাতে সঠিকভাবে বন্টন করা হয়।