
ফরিদপুরে কলেজ ছাত্রীকে জোড়পূর্বক অপহরণ করে তুলে নিয়ে ধর্ষণের দায়ে সোহেল শেখ নামের যুবককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সাথে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদন্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেন দেন। আদালত চলাকালে দন্ডপ্রাপ্ত সোহেল শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়। কারাদন্ডপ্রাপ্ত সোহেল শেখ জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার দক্ষিণ চর নারানদিয়া গ্রামের ইকবাল শেখের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের বোয়ালমারী কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে কলেজে আসা যাওয়ার পথে উক্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতো সোহেল শেখ নামের এক যুবক। ওই কলেজ ছাত্রী রাজি না হওয়ায় সোহেল শেখ ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহযোগীদের নিয়ে ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ওই কলেজ ছাত্রী প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে জোড়পূর্বক তাকে মাইক্রেবাসে তুলে নিয়ে যায় সোহেল শেখ।
পরে ওই কলেজ ছাত্রীকে বাসায় আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। কয়েকদিন পর ওই কলেজ ছাত্রী সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে বাড়িতে আসে। এঘটনায় ওই কলেজ ছাত্রীর পিতা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফরিদপুরের আদালতে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সাক্ষী ও শুনানী শেষে আজ রোববার সোহেল শেখকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন জানান, কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে বাসায় আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণের দায়ে যুবক সোহেল শেখকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেছেন আদালতের বিচারক। একই সাথে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো এক বছর কারাদন্ড ভোগ করতে হবে।
তিনি আরো জানান, এ রায়ে সমাজে আইনের প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এছাড়া এধরনের ঘটনা ঘটিয়ে কেউ পার পাবেনা এ রায়ে প্রমানিত হয়েছে। এ রায়ে আমরা খুশি।





