
ফরিদপুরে ১১ বছর বয়সী এক শিশু কণ্যাকে ধর্ষণের দায়ে সাইফুর রহমান (৩০) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।
রায় ঘোষনাকালে যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামী সাইফুর রহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সাইফুর রহমান ফরিদপুর পৌরসভার গুহলক্ষীপুর এলাকার মহিউদ্দিন রহমানের ছেলে।
ওই শিশু কণ্যা পিতা মাতার সাথে গুহলক্ষীপুর এলাকার সাইফুর রহমানের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতো। গত ২০২৩ সালের ২১ অক্টোবর রাতে সাইফুর রহমান জোড়পূর্বক ওই শিশু কণ্যাকে বাড়ির পেছনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে শিশুটি চিৎকার চেচামেচি করলে তাকে ছেড়ে দেয় সাইফুর রহমান।
ছেড়ে দেওয়ার আগে শিশুটিকে এ ঘটনা কাউকে বলতে মানা করে সাইফুর, কাউকে কিছু বললে তোকে, তোর বাবা-মা ও ভাইকে হত্যা করবো এমন হুমকি দেয়। বাড়িতে এসে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায় শিশুটি।
পরে শিশুটির বাবা-মা অসুস্থ্য অবস্থায় শিশুটিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এঘটনায় শিশুটির পিতা বাদি হয়ে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার স্বাক্ষ্য ও শুনানী শেষে আজ রায় ঘোষনা করেন আদালত।
ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভুঁইয়া রতন জানান, শিশুকণ্যাকে জোড়পূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে সাইফুর রহমান। পরে শিশুটি বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। এঘটনায় শিশুটির পিতা কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরো জানান, স্বাক্ষ্য ও শুনানী শেষে আদালত সাইফুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেন, একই সাথে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেন আদালতের বিচারক। এই রায়ে আমরা খুশি। বাদীপক্ষ ন্যায় বিচার পেয়েছে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে আইনের শাষন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।





