spot_img
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
Homeজেলার খবরদূর্গম চরাঞ্চলবাসীর মুখে হাসি ফোটালেন ইউএনও

দূর্গম চরাঞ্চলবাসীর মুখে হাসি ফোটালেন ইউএনও

ফরিদপুরের দূর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পদ্মা-১ ও পদ্মা-২ নামে চরাঞ্চলের (সরু রাস্তা) অসুস্থ্য রোগীদের বহন করতে দুইটি ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্স চালু করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ও নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের হাতে চাবি ও ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্স আকৃতির দুইটি ইজিবাইক তুলে দেন তিনি। এ সময় সদর উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং নর্থচ্যানেল ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ মোফাজ্জেল হোসেন ও ডিক্রিরচর ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, ফরিদপুর জেলা সদরের ডিক্রিরচর ও নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে বসবাসকারী বেশির ভাগ মানুষ দরিদ্র। নানা প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে তাদের চলতে হয়। সেখানকার চলাচলের রাস্তাগুলোও সরু। দারিদ্রতা ও চলাচলের রাস্তা ছোট হওয়ায় সেখানকার কেউ অসুস্থ্য হলে সময়মত হাসপাতালে যেতে পারেন না রোগিরা।

চরাঞ্চলের বাসিন্দারা যাতে কম খরচে স্বাস্থ্য পরিবহন সেবা নিতে পারেন, সেই পরিকল্পনা থেকে উপজেলা পরিচালনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে দুই ইউনিয়নে দুইটি ভ্রাম্যমাণ ইজিবাইক অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিবহন দুটি ইজিবাইক হলেও তার নাম দেওয়া হয়েছে পদ্মা-১ ও পদ্মা-২। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের যেকোনো এলাকা থেকে রোগী পরিবহনে কমিউনিটি ক্লিনিক ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে এবং জেলা সদর হাসপাতালেও যাওয়া যাবে এই ইজিবাইক অ্যাম্বুলেন্স সেবায়।

এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ইজিবাইক হলেও প্রচলিত অ্যাম্বুলেন্সের মতোই একজন চালক ২৪ ঘন্টায় রোগী পরিবহনের জন্য প্রস্তুত থাকবেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চরাঞ্চলে যারা বসবাস করে তারা প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয়। বিশেষ করে কেউ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে হাসপাতালে আনতে খুব কষ্ট হয়। দিনের বেলায় ঘোড়ার গাড়ি বা মোটরসাইকেল রয়েছে, কিন্তু রাতের বেলায় কিছুই পাওয়া যায়না। তাছাড়া রোগীকে মোটরসাইকেলে আনা সম্ভব নয়। ইউএনও মহোদয় অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ায় আমরা দিনে রাতে অসুস্থ্য রোগীদের দ্রুত শহরে নিয়ে আসতে পারবো। এধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় ইউএনও স্যারকে সাধুবাদ জানাই।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, চরাঞ্চলে পরিদর্শনকালে ডিক্রিরচর ও নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে যতটা উন্নত হিসেবে কল্পনা করেছিলাম বাস্তবে গিয়ে সেরকম দেখিনি। বিশেষ করে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা কিছুটা পিছিয়ে আছে মনে হয়েছে। তখনই চিন্তা হচ্ছিল এসব জায়গা থেকে মানুষ কিভাবে অসুস্থ রোগীকে বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ রকম একটা সমস্যা সামনে পড়লেই অনুভব করি কিভাবে সেখানকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সেবা সহজ করা যায়। সেই ভাবনা থেকেই উপজেলা উন্নয়ন ও পরিচালনা প্রকল্পের মাধ্যমে দুটি ইজিবাইক অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়। তিনি বলেন, চরাঞ্চলের সরু রাস্তায় চলবে বলে নাম রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স পদ্মা-১ ও পদ্মা-২।