ফরিদপুর থেকে বোনের সাথে গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার কালুখালীতে যাচ্ছিল ৬ বছরের শিশু প্রকৃতি হিয়া হালদার। কিন্তু সেই যাত্রায় অসহ্য যন্ত্রণা এনে দিয়েছে তাকে। পথিমধ্যে যাত্রীবাহী লোকাল বাসের রেগুলেটর বিস্ফোরণে গরম পানিতে দগ্ধ হয় তাঁর দুটি পা। বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে প্রকৃতি।
দগ্ধ শিশু রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া গ্রামের গোবিন্দ হালদারের মেয়ে। ফরিদপুর শহরের চরকমলাপুর ভাড়া বাসায় বড় বোন শিল্পী হালদার সোনালীর পরিবারের সাথে থাকে এবং ফরিদপুর সানরাইজ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (০১ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটির দুটি পায়ে ব্যান্ডেজ দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। অসহ্য যন্ত্রণায় মাঝে মাঝে চিৎকার করছে। পাশে মা কৃষ্ণা হালদার বসে অঝোরে কাঁদছেন। ৪ বোনের মধ্যে সকলের আদুরে ছোট বোনের এমন অবস্থায় তাকে ঘিরে বসে আছেন অপর দুই বোন।
হাসপাতালের ওই বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় কর্তব্যরত নার্স জানান, শিশুটির দুই পায়ের হাটু থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে, যা শরীরের প্রায় ১০ শতাংশ। শিশুটির স্বাভাবিক হাটাচলা করতে সময় লাগবে।
শিশুটির বড় বোন শিল্পী হালদার জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) মেঝ বোন পূর্ণিমা হালদারের সাথে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিল প্রকৃতি। প্রথমে ফরিদপুর থেকে গোয়ালন্দ পর্যন্ত একটি লোকাল বাসে পৌঁছান। সেখান থেকে কুষ্টিয়াগামী রাজবাড়ি মালিক সমিতির লোকাল যাত্রীবাহী বাস আলিফ পরিবহনে (ব-৮১৬৩) ওঠেন। বাসটির চেয়ার খালি না থাকায় সামনের অংশে ইঞ্জিনের পাশে থাকা একটি সিটে বসেন পূর্ণিমা হালদার এবং তাঁর কোলে বসে ছিল ছোটবোন প্রকৃতি হিয়া।
এক পর্যায়ে বিকাল ৫ টার দিকে রাজবাড়ী জেলা শহরের মুরগির ফার্ম এলাকায় পৌঁছালে বাসটির রেগুলেটর বিস্ফোরণ হয়। এ সময় প্রকৃতির দুই পায়ে গরম পানি লেগে ঝলসে যায়। তখন স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাজবাড়ী হাসপাতালে নিয়ে যান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পূর্ণিমা হালদার বলেন, আমরা যখন থেকে বাসটিতে উঠেছিলাম তখন থেকে ইঞ্জিনের পাশে থাকা সিটগুলো গরম হতে থাকে। রাজবাড়ী শহরে পৌঁছানোর পর বাসটি থামিয়ে চালক সালাম হোসেন তাঁর সহকারীকে ইঞ্জিনের ওপরের অংশ খুলে দেখতে বলেন। তখন কোনো যাত্রীকে নামতে বলা হয়নি। ওই অংশ খুলে দেখেন ভেতরের পাখাটি বন্ধ রয়েছে। এরপরই রেগুলেটরের মুখ খুলতে গিয়েই বিস্ফোরিত হয়। চারদিকে গরম পানি ছিটিয়ে পড়ে এবং ধোয়ায় ভরে যায়। তখন অনেকে ভয়ে জানালা দিয়েও বের হতে থাকে কিন্তু আমার ছোট বোনকে নিয়ে বের হতে পারিনি।
বড় বোন শিল্পী হালদার অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর আমরা রাজবাড়ী মালিক সমিতিতে অভিযোগ জানাতে গেলে আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। পরে জানতে পারি ফিটনেস সনদ, লাইসেন্স এমনকি কোনো কাগজপত্র নেই বাসটির।
তিনি বলেন, আমার বোনের যে ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেব। যেন সড়কে ফিটনেসবিহীন বাস না চালাতে পারে, এমন যেন আর কারও সাথে না হয়। আমার ছোট বোনটি আজ স্কুলেও যেতে পারছে না।
বাসটির ফিটনেস সনদ নেই বলে স্বীকার করেন রাজবাড়ী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক। তিনি বলেন, বাসটির হয়তো ২/১ মাস আগে ফিটনেস সনদের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং নতুন করে ফিটনেস সনদ দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া সড়কে চলতে গেলে অনেক দুর্ঘটনায় ঘটতে পারে। তবুও ঘটনার পর থকেই আমরা খোঁজ খবর রাখছি, হাসপাতালে আমাদের লোকও গিয়েছিল। পরিবারটির সাথে আমরা আগামীকাল বসবো।
প্রকাশক ও সম্পাদক : এম কে বসু
ঠিকানা: পুরাতন বাস স্ট্যান্ড, গোয়ালচামট , ফরিদপুর। যোগাযোগ:faridpurpost24@gmail.com
Copyright © 2026 ফরিদপুর পোস্ট. All rights reserved.